শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪:৫২ পিএম, ২০২৬-০৭-২০
নিজস্ব প্রতিবেদক :
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বৃহৎ রাজাপালং ইউনিয়নকে বিভক্ত করে দুটি পৃথক ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় উখিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি গণশুনানির আয়োজন করা হয়। তবে ওই গণশুনানিতে সাধারণ মানুষকে অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গণশুনানি শুরুর আগেই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি পক্ষের লোকজন মিলনায়তনের প্রবেশপথে অবস্থান নেয়। ফলে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও আগ্রহী ব্যক্তিদের অনেকেই ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। এতে প্রকৃত অর্থে জনগণের মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে রাজাপালং ইউনিয়ন উয়ালাপালং, রাজাপালং ও উখিয়া—এই তিনটি মৌজা নিয়ে গঠিত। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে এটি উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ইউনিয়ন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের একটি বড় অংশের দাবি ছিল, উয়ালাপালং মৌজা নিয়ে পৃথক উয়ালাপালং ইউনিয়ন এবং রাজাপালং মৌজা নিয়ে রাজাপালং ইউনিয়ন গঠন করা হলে প্রশাসনিক সেবা আরও সহজলভ্য হবে এবং জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে।
তবে প্রস্তাবিত সীমানা নির্ধারণে উয়ালাপালং মৌজার উল্লেখযোগ্য অংশ রাজাপালং ইউনিয়নের সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এতে ভৌগোলিক বাস্তবতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের জনদাবি উপেক্ষিত হয়েছে। তাদের মতে, ইউনিয়ন পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য যদি প্রশাসনিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়, তবে সীমানা নির্ধারণেও সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানার কাছে নুর মোহাম্মদ সিকদার, অ্যাডভোকেট উলিউল্লাহ, অ্যাডভোকেট শাহাজালাল বাবুল, আব্দুল হক মেম্বার, নুরুল ইসলাম, কবির আহমদ ও মো. ইসমাইল লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্বিন্যাসের আওতায় মধুরছড়া ও মাছখারিয়া এলাকার ভোটারদের কুতুপালং ওয়ার্ডের সঙ্গে যুক্ত করে কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়কে ভোটকেন্দ্র করার পরিকল্পনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ, দীর্ঘ পথ এবং যাতায়াতের দুর্ভোগের কারণে নারী, প্রবীণ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের অবাধ ভোটাধিকার প্রয়োগও ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকটি ওয়ার্ডকে বিভক্ত করে এমন সব এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে দূরত্ব ৯ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এতে ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াত এবং সরকারি সেবা গ্রহণ সাধারণ মানুষের জন্য আরও জটিল হয়ে পড়বে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, তারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আপত্তি জমা দিলেও গণশুনানিতে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাননি। তাদের ভাষ্য, যাদের মতামত নেওয়ার কথা, তারাই যদি কথা বলার সুযোগ না পান, তাহলে গণশুনানির উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলকভাবে গণশুনানি পরিচালনার পরিবর্তে রাজনৈতিক নেতাদের সক্রিয় উপস্থিতি ও প্রভাব পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গণশুনানিকে কেন্দ্র করে রাজাপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়ার নেতৃত্বে সকাল ১১টা থেকে রাজনৈতিকভাবে মাইকিং করে লোকজন জড়ো করা হয়। পরে বিএনপির সমর্থকদের দিয়ে গণশুনানির হলরুম পূর্ণ করে লোকদেখানো গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সাধারণ জনগণকে নিজেদের মতামত ও দাবিদাওয়া উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি; বরং কথা বলতে গেলে বাধা দেওয়া হয়েছে।
গণশুনানিতে অংশ নিতে না পারা কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, "এটি জনগণের মতামত জানার আয়োজন হলেও সাধারণ মানুষকে বাইরে রেখে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। আমাদের কথা শোনার সুযোগই দেওয়া হয়নি।"
তবে গণশুনানিতে অংশগ্রহণে বাধা, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা সীমানা নির্ধারণ নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, "ইউনিয়ন বিভক্তকরণ একটি আইনি প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।"
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাজাপালং ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবেই নতুন ইউনিয়ন গঠনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে এবং জনগণের আস্থা অটুট থাকবে।
অনলাইন ডেস্ক: : কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার আদিনাথ জেটি এলাকায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার (মিশুক) ধাক্কায় এক শি...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : বান্দরবানের লামা উপজেলার ৩ নম্বর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছার মুখ এলাকা থেকে তিন কিশোরী নিখোঁজ হ...বিস্তারিত
টেকনাফ প্রতিনিধি : : দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত ও জাহাজ চলাচল নিয়ে সুখবর আসতে যাà...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে যাত্রীবাহী অটোরিকশা ও মিনিট্রাকের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহà...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো তিন মাসব্যাপী 'কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬' শুরু হচ্ছে ১ নভেম্বà...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারের চকরিয়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৫ টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ জন সন্ত্রাসী ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited