শিরোনাম
সুব্রত আপন, স্টাফ রিপোর্টার: | ০৩:০৩ পিএম, ২০২৫-০৭-১৮
আয়াছ রনি:
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা মৌজায় বিডিএস (বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে)–এর আওতায় ভূমি জরিপ চলাকালে এলাকাভিত্তিক দালালদের কারণে সরকারি জরিপ দলের সদস্যরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভূমি মালিকদের অনেকেই দালালদের দেওয়া মিথ্যা আশ্বাস ও অর্থ লেনদেনের ফাঁদে পড়ে জরিপ কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ছেন, অভিযোগ করছেন পক্ষপাতিত্বের। অথচ, জরিপ সংশ্লিষ্টদের দাবি, পুরো ঘটনাটি সাজানো হচ্ছে দালালদের আগ্রাসী ভূমিকার কারণে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন—এই পরিস্থিতি শুধু জরিপকাজে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না, বরং পুরো ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থার ওপরই প্রশ্ন তুলছে।
#দালালের ফাঁদ: ‘টাকা দিলে জমি পাকা’
সরকারের পক্ষ থেকে বিডিএস জরিপ কার্যক্রম ২০২৩ সাল থেকে চালু হয়, যা ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি মৌজায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা মৌজায় বর্তমানে চলমান জরিপে দেখা যাচ্ছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের “সার্ভেয়ারের লোক”, “ভূমি অফিসের এজেন্ট” বা “জরিপ ফিক্সার” পরিচয়ে ভূমির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা নিচ্ছে।
দালালরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে—১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট জরিপে রেকর্ড নিশ্চিত করা হবে। কেউ কেউ বলছে,
“এখন টাকা দিলে নাম ওঠানো যাবে, নাহলে খাস খতিয়ানে চলে যাবে।”
স্থানীয়ভাবে এসব দালাল পরিচিত মুখ। ফলে অনেকেই বিশ্বাস করে টাকা দিয়ে বসছেন, এবং পরবর্তীতে যখন সেই নাম ওঠে না বা জমির অবস্থান বদলায়—তখন তার দায় চাপানো হচ্ছে সরাসরি সরকারি জরিপ দলের ওপর।
# সার্ভেয়ারদের হয়রানি: হুমকি, গালিগালাজ, এমনকি লাঞ্ছনা। সংশ্লিষ্ট জরিপ দলের একজন সহকারী সার্ভেয়ার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জমির সঠিক তথ্য তুলে ধরলেই সমস্যা। ভূমির মালিক বলছেন, আমি তো টাকা দিয়েছি, আমার নাম কেন আসেনি? আমরা বলছি, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যেটা বৈধ, সেটাই নথিভুক্ত হবে। তখনই শুরু হয় গালিগালাজ, কখনো শারীরিক হুমকিও।”
আরেকজন কর্মকর্তা বলেন,“আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে এসে দালালদের লোকজন আমাদেরকে খোঁটা দেয়, বলে আমরা টাকা খাইনি তাই নাম ওঠায়নি। অথচ আমরা কখনোই কাউকে টাকার জন্য কিছু বলিনি।”
জরিপ দলের একজন সার্ভেয়ার বলেন,
“এটি শুধু হয়রানি নয়, এটি জরিপের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নষ্টের গভীর ষড়যন্ত্র।”
# ভূমির মালিকেরা বিভ্রান্ত, ভুক্তভোগী:
ঝিলংজা মৌজার বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন,“আমি এক পরিচিত লোকের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছি। সে বলে—এই জরিপেই নাম উঠে যাবে। পরে জানতে পারি জরিপ হয়েছে, কিন্তু আমার নাম নেই। এখন জরিপ কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলে, আমি নাকি দালালের খপ্পরে পরে গেছি। তাহলে আমি কী করলাম?”
স্থানীয় গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, “জমিটা আমার শ্বশুরের নামে ছিল। আমার দেবর বলে, ১০ হাজার দিলে ফরম জমা হয়ে যাবে। আমি টাকা দিই। পরে দেখি জরিপে ওই জমির অবস্থান পাল্টে গেছে। এখন আমি কার কাছে যাব?”
# সরকারি অবস্থান: প্রতারক চক্রকে ধরুন, নয়তো জমিও যাবে, টাকাও যাবে।
কক্সবাজার সদর ভূমি অফিসের একজন সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা বলেন,“বিডিএস একটি প্রযুক্তিনির্ভর, উপগ্রহনির্ভর জরিপ। এখানে মানবিক হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। দালালেরা যে দাবি করছে—টাকা দিলে নাম উঠবে—তা অবৈধ ও সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মাঠে গিয়ে বহুবার প্রচার করেছি—জরিপে কোনো রকম টাকা লাগে না। সেবা বিনামূল্যে, অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জমা দিতে হবে। কিন্তু এখন মানুষ টাকা দিয়ে আশা করে কিছু পাবে, আর না পেলে আমাদের ওপর ক্ষোভ দেখায়।”
# আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর করণীয় কী?
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা দালালদের বিষয়ে একাধিক মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন, কিন্তু ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করতে অনীহা প্রকাশ করেন। কারণ, তারা সামাজিকভাবে ‘বোকা’ বা ‘ধোঁকা খাওয়া’ স্বীকৃতি পেতে চান না।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “সরকারি কার্যক্রমে বাধা, ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা—এগুলো ফৌজদারি অপরাধ। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
# বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিতে: জরিপ কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
ভূমি ও জরিপ ব্যবস্থা বিশ্লেষক অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, “ভূমি জরিপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে মাঠপর্যায়ে সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যেহেতু এখনো ভূমির ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়, তাই তথ্যচুরি বা বিকৃতি ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়তে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ব্লকভিত্তিক জনগণের মধ্যে SMS বা অ্যাপে আপডেট পৌঁছালে মানুষ আর দালালের প্রয়োজন বোধ করবে না।”
# সতর্কতা ও করণীয়:
* বিডিএস জরিপ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, কোনো আর্থিক লেনদেন প্রয়োজন নেই
* সার্ভেয়ার বা সরকারি কর্মীরা কখনো টাকা দাবি করেন না
* জরিপে কোনো সমস্যা হলে উপজেলা ভূমি দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসে লিখিত অভিযোগ দিন
* দালাল চক্রের হাতে প্রতারিত হলে ৯৯৯ বা থানায় অভিযোগ করুন
* পরিচয়পত্রবিহীন বা অফিসের বাইরে কাউকে বিশ্বাস করবেন না
তথ্যসূত্র: কক্সবাজার সদর ভূমি দিয়ারা সেটেলমেন্ট অপারেশন অফিস।
নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বৃহৎ রাজাপালং ইউনিয়নকে বিভক্ত করে দুটি পৃথক ইউ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন জেলা কক্সবাজারে টেলিভিশন সাংবাদিকদের পেশাগত ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে সংঘটিত সহিংসতা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে হতাহ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রেস বিজ্ঞপ্তি ঃ কক্সবাজারের সু পরিচিত মানবিক ব্যক্তি হাজী মন্জুর আলমের নিজের একটি ...বিস্তারিত
চকরিয়া প্রতিনিধি: : কক্সবাজার, প্রতিনিধি : কক্সবাজারের চকরিয়ায় মোহাম্মদ আব্দুল গাফফার এবং মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারের টেকনাফে ‘পূর্বশত্রুতার জেরে’ দিনে-দুপুরে ‘দুর্ঘটনায় মায়ের মাথা ফাটার’ কথা জা...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited