শিরোনাম
অনলাইন ডেস্ক: | ০৭:৪৬ পিএম, ২০২৬-০৮-৩০
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধের সীমান্ত সড়কের কয়েকটি জায়গার সিসি ব্লক সরে যাচ্ছে ঢেউয়ের ধাক্কায়। দেড়শো কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের তিন বছরের মাথায় সড়কটি ভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে অন্তত আরও ৪০০ ঘরবাড়ি সাগরগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা জানায়, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া অংশের এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। ২০২০ সালে এক কিলোমিটারসহ দুই কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার ও মেরামত করা হলেও তা স্থায়ী হয়নি। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই সংস্কারের পরও শাহপরীর দ্বীপ, নয়াপাড়া-কাটাবুনিয়া- হারিয়াখালী এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকত নিয়মিত। পরে ২০২২ সালে প্রায় ১৫১ কোটি ব্যয় করে ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ওপর সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এই সড়ক ভাঙনের মুখে পড়ায় শাহপরীর দ্বীপের ডাঙ্গরপাড়া, মাঝের পাড়া, দক্ষিণপাড়া, ঘোলাপাড়ার অন্তত আরও ৪০০ বসতবাড়ি বিলীনের ঝুঁকিতে রয়েছে। শাহপরীর দ্বীপ দ্বীপের পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকের অন্তত সাত কিলোমিটার বঙ্গোপসাগরবেষ্টিত। পূর্ব দিকে আরও পাঁচ কিলোমিটার নাফ নদীর তীরবর্তী।
পাউবোর সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, ২০১৬ সালে শাহপরীর দ্বীপের ২ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য প্রায় ১৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ২০১৭ সালে ভাঙা বাঁধের কাজ শুরু হয়। শেষ হয় ২০২২ সালের জুন মাসে। এর আগে ভাঙা বাঁধ দিয়ে প্রবেশ করা জোয়ারের ধাক্কায় টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের হারিয়াখালী থেকে উত্তরপাড়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার পাকা সড়ক ভেঙে যায়। ২০১৮ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ৬৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাঙা সড়কের ৫ দশমিক ১৫ কিলোমিটার আবার নির্মাণ করে। ২০২২ সালের নভেম্বরে সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ম্যাপ রেফারেন্স দেখা
সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় সীমান্ত সড়কের পশ্চিম, দক্ষিণ দিকে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। বেড়িবাঁধ রক্ষার জন্য পশ্চিম অংশে বাঁধের ঢালুতে সিসি ব্লক বসানো হয়েছিল। এখন সিসি ব্লকের নিচের মাটি ধসে গিয়ে ব্লকগুলো সরে যাচ্ছে। এতে ঢেউ সরাসরি মাটির বাঁধে আঘাত হানছে। বেড়িবাঁধের ভেতরে (পূর্বপাশে) ডাঙ্গর পাড়া, মাঝের পাড়া, দক্ষিণপাড়া, ঘোলাপাড়াতে রয়েছে দুই হাজারের বেশি ঘরবাড়ি।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া অংশের এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। ২০২০ সালে এক কিলোমিটারসহ দুই কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার ও মেরামত করা হলেও তা স্থায়ী হয়নি। প্রায় তিনশ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই সংস্কারের পরও শাহপরীর দ্বীপ, নয়াপাড়া-কাটাবুনিয়া-হারিয়াখালী এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকত নিয়মিত। পরে ২০২২ সালে প্রায় ১৫১ কোটি ব্যয় করে ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ওপর সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এই সড়ক ভাঙনের মুখে পড়ায় শাহপরীর দ্বীপের ডাঙ্গরপাড়া, মাঝের পাড়া, দক্ষিণপাড়া, ঘোলাপাড়ার অন্তত আরও ৪০০ বসতবাড়ি বিলীনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
শাহপরীর দ্বীপের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কলিম উল্লাহ বলেন, ১৯৯০ সালেও শাহপরীর দ্বীপের দৈর্ঘ্য ছিল ১৪ কিলোমিটার আর প্রস্থ ৯ কিলোমিটার।লোকসংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার। সাগরে বিলীন হতে হতে এখন দ্বীপটির দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩ কিলোমিটারে ঠেকেছে। শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম ও দক্ষিণাংশে প্যারাবন সৃষ্টির সুযোগ না থাকায় বঙ্গোপসাগরের ঢেউ সরাসরি বেড়িবাঁধে আঘাত হানছে। তাতে বাঁধের পশ্চিম পাশের সিসি ব্লক সরে গিয়ে নিচের মাটির বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। আবার বসতবাড়ি বিলীনের ঝুঁকিতে পড়েছে হাজারো মানুষ।
কলিম উল্লাহ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা বেড়েছে। লঘুচাপ কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত পড়লে জোয়ারের পানি বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। জোয়ার ঠেকাতে এই বাঁধের উচ্চতা আরও অন্তত চার ফুট বাড়ানো দরকার।
শাহপরীর দ্বীপের জেলে নজির আহমদ (৫৫) বলেন, বেড়িবাঁধের পাশে টিনের বাড়িতে থাকেন। ১৯৯১ সালের তাঁর বাড়ি ছিল সাগরের মধ্যে ৭০০ মিটার দূরে। গত তিন দশকে চারবার তাঁকে বসতবাড়ি সরাতে হয়েছে। ঢেউয়ের আঘাতে তাঁর বাড়ির পাশে বেড়িবাঁধের সিসি ব্লক উপড়ে পড়ছে। সিসি ব্লকগুলো বিশাল আকারের হওয়ায় আবার স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে ভাঙন দেখে গেলেও সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না। উচ্চ জোয়ারের লোনাপানি বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকে লোকজনের ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি প্লাবিত করছে। তাতে খেতের ফসল গাছপালা মরে যাচ্ছে।
শাহপরীর দ্বীপের মাঝেরপাড়ার জেলে আহমদ আ্লী (৬০) বলেন, আবারও ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। আমরা গরিব মানুষ। কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। যাঁদের জায়গায় জমি আছে, তাঁরা আগেভাগে চলে যাচ্ছেন। ত্রাণ নয়, আমরা বেড়িবাঁধ চাই।’
ঘোলারচরের বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, বেড়িবাধেঁর বাইরে আমরা ৩৩টি পরিবার প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষের বসবাস। কোন ধরনের বাঁধের উপর বেড়িবাধ না থাকায় যারা জীর্ণ জীবন যাপন করতেছে। রাখে আল্লাহ মারে কে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, বেড়িবাধঁটি প্রতিবার নির্মাণ করার সময় এলাকার মানুষের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। আগামীতে ভালোভাবে বাধ নির্মাণ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, বাধের বাইরে প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষ বসবাস করছে। জরুরী কোন ধরনের ত্রাণ সামগ্রী পাওয়া গেলে সর্বপ্রথম তাদেরকে দেওয়া হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) টেকনাফের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী রিফাত ইবনে রশিদ বলেন, বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। ঢেউয়ের ধাক্কায় শাহপরীর দ্বীপের কয়েকটি জায়গায় সিসি ব্লক উপড়ে পড়ছে। পাউবো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের কাজ সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।
পাউবো কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, লোকালয়ে যেন সাগরের পানি ঢুকতে না পারে, এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামতের কাজ শুরু হবে । তবে স্থায়ীভাবে সংস্কারকাজ শুরু হবে নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে, সাগর শান্ত হলে। উত্তাল পরিস্থিতিতে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ।
-------------------------------------------------------------------------------
তথ্যসূত্র:
--https://surl.li/zejawx
অনলাইন ডেস্ক: : সারা দেশে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে খুনাখুনি। রাজনৈতিক কোন্দল, দখল, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিগত দ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : আপনার এলাকার কোনো সংবাদ, সমস্যা, সম্ভাবনা, মানবিক গল্প, বিশেষ ফিচার কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য থাকলে তা আ...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোরে সার্বক্ষণিক কোনো ডাক্তার না থাকায় রোগী ...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জান...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : সম্পাদকীয় নীতিমালার সীমারেখা মেনে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি জনস্বার্থে দুর্নীতি, অনিয়...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited