শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬:৫২ পিএম, ২০২৬-১০-৩১
ওয়াজেদুল হক মণি :
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ও মহেশখালী দ্বীপের মধ্যে সংযোগকারী বদরখালী-মহেশখালী সেতুকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাত্র ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৪৭ দশমিক ৫২ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি থেকে গত ১৯ বছরে (২০০৭ থেকে ২০২৬ সাল) অন্তত শত কোটি টাকার টোল আদায় করা হয়েছে।
সেতুটি নির্মাণের মূল ব্যয় বহু আগেই উঠে গেলেও কেন এখনো সাধারণ মানুষকে নিয়মিত টোল গুনে যাতায়াত করতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কক্সবাজারের সচেতন মহল।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, কক্সবাজারের তথ্যমতে সেতুটির বর্তমান ইজারা দেওয়া হয়েছে মেসার্স দৌলত কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী দিদারুল ইসলাম এমরানকে। ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই তিন বছর মেয়াদি ইজারার চুক্তি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বহাল ছিলো । তবে এর আগেও টানা দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে সেতুটির টোল আদায়ের ইজারা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ছিল মাত্র ১১ কোটি টাকা। কিন্তু গত ১৯ বছরে আদায় করা টোলের পরিমাণ সেই ব্যয়কে বহু গুণ ছাড়িয়ে গেছে। নির্মাণের খরচের অর্থ উঠে যাওয়ার পরও বারবার সেতুটি নতুন করে ইজারা দেওয়াকে সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী হিসেবে দেখছেন তারা। একই সাথে নির্মাণ ব্যয়, বাৎসরিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, বিগত বছরগুলোর অর্জিত আয় এবং টোল আদায়ের মেয়াদের চূড়ান্ত হিসাব নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
মহেশখালী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন এ প্রসঙ্গে জানান, আমি দায়িত্বে থাকাকালীন বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছি এবং ইজারাদারদের কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি। ২০২৬ সালের জুনে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই সেতুটি সম্পূর্ণ টোলমুক্ত করার জন্য ইউএনওর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।" তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বার্থে সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি বর্তমান প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত কার্যকর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বিগত সময়ের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে সেতুটির টোল আদায় বেশ কয়েকবার বাধাগ্রস্ত ও জটিল হয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও কারফিউ চলাকালে সেতুতে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল এবং টোল প্লাজায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সেতু সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত একটি নৃশংস ঘটনার পর যাত্রীবাহী যান চলাচল দীর্ঘ সময় সীমিত হয়ে পড়ে। এসব ঘটনার কারণে ইজারাদার পক্ষ বিপুল লোকসানের দাবি করে আসছে, যা সেতুর সার্বিক হিসাব ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।।
সেতুটির বৈষম্যমূলক টোল নীতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় তরুণ ও সচেতন নাগরিকরা। মহেশখালীর এক তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট রুহুল আমিন বলেন, বদরখালী সেতুর চেয়ে অনেক বড় মাতামুহুরি নদী বা মাতারবাড়ী সংযোগ সেতুতে কোনো টোল দিতে হয় না, অথচ বদরখালী সেতুতে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষকে টোল দিতে হচ্ছে। তার ওপর সরকারি বা বিভিন্ন প্রকল্পের গাড়িগুলোকে কোনো টোল দিতে হয় না, সব বোঝা এসে পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।
স্থানীয়দের দাবি একটাই ১১ কোটি টাকার সেতুতে দীর্ঘ ১৯ বছরে কত টাকা টোল সংগৃহীত হয়েছে তা দ্রুত জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং ২০২৬ সালে বর্তমান ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বদরখালী-মহেশখালী সেতুটিকে স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত ঘোষণা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো জবাব দেয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন পুরো মহেশখালী ও চকরিয়ার সর্বস্তরের জনগণ।
নিজস্ব প্রতিবেদক : ওয়াজেদুল হক মণি : কক্সবাজারের মহেশখালীতে আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম ১xবেটের (1xBet) স্থà...বিস্তারিত
উখিয়া প্রতিনিধি : ইউসুফ নুর: কক্সবাজারের উখিয়ার ছোট ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে জ্বলে ওঠা আগুনের ঘটনায় নি...বিস্তারিত
উখিয়া প্রতিনিধি : উখিয়া উপকূলীয় প্রতিনিধি: ইউসুফ নুর কক্সবাজারের উখিয়ার ছোট ইনানীতে নলকূপ স্থাপনের জন্য মাটি খন...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বহিরাগত শেফায়ত ইসলাম নয়নের বিরুদ্ধে অফà¦...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পহরচাঁদা ইউনিয়নে মাতামুহুরী নদীর ওপর নবনির্মিত রেল সেতুর বিকল্প পথেà¦...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার আদিনাথ জেটি এলাকায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার (মিশুক) ধাক্কায় এক শি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited