শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৮:৫৪ পিএম, ২০২৬-১১-০৩
সরকারিভাবে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন নৌপথে পর্যটক পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রুট পারমিটের জন্য আবেদন করা সাতটি পর্যটকবাহী জাহাজের মালিকপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় এখনো কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমোদন পায়নি। ফলে দ্বীপ ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকদের যাত্রা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, সাতটি জাহাজের মধ্যে তিনটির অনুকূলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্র পাওয়া গেছে। তবে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতিতে এসব জাহাজের রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদন করা সম্ভব হচ্ছে না। বাকি চারটি জাহাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সম্মতি চাওয়ার প্রক্রিয়াও আটকে রয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি রয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে ভ্রমণ করতে পারবেন। পর্যটকদের জন্য পুরো মৌসুমে রাত্রিযাপনের সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও জাহাজ চলাচলের অনুমোদন না মেলায় কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।
বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক সালমা আক্তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জাহাজগুলোর আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠি অনুযায়ী, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া ও এমভি টেকনাফের মালিকপক্ষ গত ৬ ও ৭ অক্টোবর রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদনের আবেদন করে। এসব জাহাজের অনুকূলে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্র পাওয়া গেলেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় অনুমোদন দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে এমভি কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, এমভি কেয়ারি সিন্দাবাদ, এলসিটি কাজল ও এমভি বে-কুইজার-১ নামের চারটি জাহাজের মালিকপক্ষ গত ২৬ ও ২৭ অক্টোবর আবেদন করে। কিন্তু প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় এসব জাহাজের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সম্মতি চেয়ে চিঠি পাঠানো সম্ভব হয়নি।
বিআইডব্লিউটিএর চিঠিতে সাতটি জাহাজের মালিকপক্ষকে হালনাগাদ সার্ভে সার্টিফিকেট, রুট পারমিট ফি জমার প্রমাণ, কোস্টগার্ডের ছাড়পত্র, ভয়েজ লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নথি জমা দেওয়ার পরই পরবর্তী অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত নৌপথে যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। দীর্ঘ সামুদ্রিক পথে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে জাহাজের হালনাগাদ সার্ভে সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় নৌ-সংক্রান্ত নথিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। দীর্ঘদিন সমুদ্রে চলাচল না করায় বেশ কিছু জাহাজের এসব সনদ হালনাগাদ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো জাহাজকে রুট পারমিট দেওয়ার সুযোগ নেই। যেসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত চাহিদা অনুযায়ী নথিপত্র জমা দেবে, তাদের অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
তবে জাহাজ মালিক ও ট্যুর অপারেটরদের দাবি, গত ২৭ অক্টোবর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে ১ নভেম্বর থেকে পর্যটক চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় জাহাজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা সম্ভব হয়নি। বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী সব প্রতিষ্ঠান দ্রুত নথিপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, ৫ বা ৬ নভেম্বর থেকে এমভি বারো আউলিয়া, এমভি টেকনাফ ও এমভি কর্ণফুলী জাহাজ চলাচল শুরু করার কথা রয়েছে। তবে এখনো প্রশাসনের অনুমতি পাওয়া যায়নি।
এদিকে এমভি মালঞ্চ জাহাজের ভাড়া ও পরিচালনার অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর কক্সবাজার (কস্তুরাঘাট) নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল বলেন, এমভি মালঞ্চ সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
অন্যদিকে জাহাজটি ভাড়ায় দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিসির চট্টগ্রাম অফিসের সহ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) কে এম এমরান। সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি বলেন, কক্সবাজারের একটি প্রতিষ্ঠান জাহাজটি ভাড়া নিয়েছে। আগামী ৫-৬ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত এটি সেন্ট মার্টিন রুটে চলবে। ভাড়ার বিষয়ে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। এটি ট্যুরিজম বোর্ড নির্ধারণ করে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাহাজগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া জরুরি হলেও পর্যটন মৌসুমের শুরুতে এ ধরনের জটিলতা দ্বীপের পর্যটন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পর্যটক পরিবহন বিলম্বিত হলে সেন্ট মার্টিনের পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উখিয়া প্রতিনিধি : উখিয়া উপকূলীয় প্রতিনিধি: ইউসুফ নুর কক্সবাজারের উখিয়ার ছোট ইনানীতে নলকূপ স্থাপনের জন্য মাটি খন...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পহরচাঁদা ইউনিয়নে মাতামুহুরী নদীর ওপর নবনির্মিত রেল সেতুর বিকল্প পথেà¦...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার আদিনাথ জেটি এলাকায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার (মিশুক) ধাক্কায় এক শি...বিস্তারিত
টেকনাফ প্রতিনিধি : : দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত ও জাহাজ চলাচল নিয়ে সুখবর আসতে যাà...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : মহেশখালী উপজেলার পুরাতন আদালত রোডে অবস্থিত মেহেল ডাইনিং লাউঞ্জে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন ও গ্রাà...বিস্তারিত
টেকনাফ প্রতিনিধি : : কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া দুই বন্ধুকে...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited